যশোরের চৌগাছায় নিখোঁজের তিন দিন পর একলাস হোসেন (২৬) নামে এক ইঞ্জিনচালিত ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাশের উপজেলা ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর পূর্বপাড়া এলাকার কপোতাক্ষ নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনেরা এসে মরদেহটি একলাস হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।
নিহত একলাস হোসেন চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের সানাউল হোসেনের ছেলে। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তিন দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিজের প্রায় নতুন একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন একলাস। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন। পরিচিতজনদের কাছেও তাঁর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু কোথাও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর পরিবারের পক্ষ থেকে চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি করার পরও একলাসের সন্ধানে খোঁজ চলতে থাকে। তাঁর সঙ্গে থাকা ইঞ্জিনচালিত ভ্যানটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর পূর্বপাড়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদে এক যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর একলাসের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁরা মরদেহটি একলাস হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
নিখোঁজ হওয়ার পর তিন দিন পেরিয়ে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একলাসের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে কীভাবে তিনি কপোতাক্ষ নদে গেলেন, পানিতে তাঁর মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে কিংবা এর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনা জড়িত কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, নিখোঁজের ঘটনায় আগে করা সাধারণ ডায়েরি এবং নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একলাসের বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়, তাঁর চলাচলের সম্ভাব্য পথ এবং নিখোঁজ হওয়ার পরের সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, কপোতাক্ষ নদে মরদেহ ভাসতে দেখার পর বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়। এরপর পুলিশের তৎপরতায় মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভ্যানটির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা ভ্যানটির অবস্থান কোথায়—এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অল্প বয়সে একলাসের এমন মৃত্যু তাঁর পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা যে উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন, তিন দিন পর মরদেহ শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হলেও সামনে এসেছে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের প্রশ্ন। তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।


