খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে চৈত্র ১৪৩২ | ৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এক নবম শ্রেণির ছাত্রীকে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করার মতো একটি জঘন্য ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নানি বাদী হয়ে দুই যুবকের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। এই লোমহর্ষক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে, তবে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তালতলা সরকারপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লেখাপড়ার সুবিধার্থে সে দীর্ঘ দিন ধরে ওই গ্রামেই তার নানির বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। ঘটনার দিন, অর্থাৎ ৫ এপ্রিল (রবিবার) সকালে কোনো এক প্রয়োজনে কিশোরীর নানি ও মা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রংপুরে যান। বাড়িতে মেয়েটি একাই অবস্থান করছিল।
অভিযুক্ত দুই যুবক—কাজল রানা (২১) ও মুন্না ইসলাম মান্নান (২৪)—পূর্ব থেকেই ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত কি না বা তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। দুপুর ২টার দিকে বাড়ির আশেপাশে একা পেয়ে ওই দুই বখাটে যুবক জোরপূর্বক কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। তারা তাকে টেনেহিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী একটি ভুট্টা ক্ষেতের ভেতরে নিয়ে যায় এবং মুখে কাপড় বেঁধে আটকে রাখে। অত্যন্ত নির্মমভাবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এক পর্যায়ে লম্পটরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও কিশোরীকে বাড়িতে না ফেরায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভুট্টা ক্ষেতের ভেতরে কিশোরীকে গুরুতর আহত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে উদ্ধার করার পর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৬ এপ্রিল (সোমবার) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার।
ভুক্তভোগী কিশোরীর নানি বাদী হয়ে ৫ এপ্রিল রাতে ডিমলা থানায় অভিযুক্ত কাজল রানা ও মুন্না ইসলাম মান্নানের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ কিশোরীর প্রাথমিক জবানবন্দি গ্রহণ করেছে এবং শারীরিক পরীক্ষার (ফরেনসিক টেস্ট) জন্য তাকে জেলা সদরের হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সারণি আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনার স্থান | তালতলা সরকারপাড়া, খালিশা চাপানী, ডিমলা, নীলফামারী। |
| ভুক্তভোগীর পরিচয় | নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। |
| অভিযুক্তের নাম | কাজল রানা (২১) ও মুন্না ইসলাম মান্নান (২৪)। |
| ঘটনার তারিখ | ৫ এপ্রিল, ২০২৬ (রবিবার)। |
| ঘটনার সময়কাল | দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত (প্রায় ৫ ঘণ্টা)। |
| মামলা দায়ের | ৫ এপ্রিল দিবাগত রাত। |
| বর্তমান পরিস্থিতি | অভিযুক্তরা পলাতক, পুলিশি অভিযান অব্যাহত। |
ডিমলা থানার ওসি মো. শওকত আলী সরকার জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল খালিশা চাপানী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে দেখছি। ভুক্তভোগী কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আমরা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সোর্স ব্যবহার করছি।”
এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় নিয়মিত টহল প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড করার সাহস না পায়। প্রশাসন ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, পুলিশ খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মুখোমুখি করবে।