নেপালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোকে পিছনে ফেলে এক ধরণের রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দলের নেতা বালেন্দ্র শাহ আগামী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অটল অবস্থানে। ৩৫ বছর বয়সী শাহর নেতৃত্বে আরএসপি দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
নেপালের ভোটের ফল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনীয়। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ ও জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থান নেপালের ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে বাংলাদেশে জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে গঠিত নতুন দল নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি। নেপালে তার উল্টোটা ঘটেছে: জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের প্রার্থী বালেন্দ্র শাহ প্রথাগত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনী ফলাফল এবং আসনের বণ্টন
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আরএসপি নির্বাচনে ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট পদ্ধতিতে ১৬৫টি এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে ১১০টি আসন জয় করেছে। ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী সপ্তাহে প্রত্যাশিত।
| নির্বাচন পদ্ধতি | মোট আসন | আরএসপি জয়ী আসন |
|---|---|---|
| ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট | 165 | 165 |
| আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব | 110 | 110 |
| মোট | 275 | 275 |
প্রচারণার কৌশল ও পরিকল্পনা
বালেন্দ্র শাহের নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্র ছিল পশ্চিম কাঠমান্ডুর একটি ছয়তলা ভবন। দলের সদর দপ্তরের ওপরের তিন তলা থেকে সমন্বয় করা হয়েছিল প্রচারণার কাজ। আরএসপির জাতীয় প্রচারণা দল প্রায় ৩০০ জন কর্মী নিয়ে তিনটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করেছে।
প্রতি আট দিনে একবার বড় ভাষণ প্রদান, সোশাল মিডিয়া টিমের মাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিদিন সাতটি প্রদেশে রোড শো আয়োজন ছিল কৌশলের মূল অংশ। প্রচারণার ব্যয় মূলত প্রবাসী নেপালিদের অনুদান থেকে এসেছে।
এক নেতা বলেন, ‘প্রতিটি ভাষণকে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ করলে বার্তা স্পষ্ট থাকে এবং মানুষ বিভ্রান্ত হয় না। আমরা বিরোধীদের তর্ক শোনার পর একবারেই জবাব দিই।’
সমতল থেকে পাহাড় পর্যন্ত
নির্বাচনের আগে বালেন্দ্র শাহ ছিলেন কাঠমান্ডুর মেয়র। ২০২২ সালে তিনি নির্বাচিত হন। নেপালের জনপ্রিয় র্যাপার হিসেবে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী ছিলেন, যা রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মাধেশ ও তেরাই অঞ্চলে তিনি সমর্থন জোগাতে সমাবেশ এবং পথসভা ব্যবহার করেছেন।
বালেন্দ্র শাহ ঝাপা-৫ আসনে নির্বাচন করেছিলেন, যা দীর্ঘদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেখানে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হয়।
আরএসপির নেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরকার প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে বাইরের বিশেষজ্ঞদেরও অন্তর্ভুক্ত করবে এবং তরুণ প্রজন্মের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডি পি আরিয়াল বলেন, ‘নেপালের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ অনুভব করবে সরকার তাদের জন্য কাজ করছে এবং তরুণদের অংশগ্রহণ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হবে।’



