মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ভদ্রখোলা গ্রামে একটি পরিত্যক্ত ঘরে মজুত করে রাখা দুটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় আলমগীর লপ্তির পরিত্যক্ত ওই ঘরে বিস্ফোরণ দুটি ঘটে। বিকট শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর লপ্তির পুরোনো ও বর্তমানে ব্যবহার না হওয়া একটি ঘরের ভেতরে দুটি হাতবোমা রাখা ছিল। রাতে হঠাৎ করে সেগুলো বিস্ফোরিত হলে এলাকায় প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়। শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। কী কারণে বোমা দুটি বিস্ফোরিত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মাদারীপুর সদর থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের পাশাপাশি পরিত্যক্ত ঘরে কীভাবে বিস্ফোরকগুলো এলো, সেগুলো কারা সেখানে রেখে গেছে এবং বিস্ফোরণের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে।
ঘরের মালিক আলমগীর লপ্তি বলেন, তাঁর পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে কে বা কারা হাতবোমা রেখে গিয়েছিল, সে বিষয়ে তারা কিছু জানতেন না। রাতে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে তারা পাশের নতুন ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। পরে পুরোনো ঘরের দিকে গিয়ে বিস্ফোরণের পর বোমার গন্ধ পান।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও সেখানে আর কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। পরিত্যক্ত বা দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া স্থানে এ ধরনের বিস্ফোরক কীভাবে সংরক্ষিত ছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, আলমগীর লপ্তির পুরোনো বা পরিত্যক্ত একটি ঘরে দুটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং বোমাগুলো সেখানে কারা রেখেছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
পুলিশের তদন্ত শেষ হলে বিস্ফোরক দুটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বর্তমানে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


