পাবনা সদর উপজেলার গাছপাড়া এলাকায় চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সুমন (৩০) নামে এক রিকশাচালককে ধরে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) রাতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত সুমন পাবনা সদর উপজেলার গাছপাড়া গ্রামের রবি হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সাধারণ রিকশাচালক ছিলেন এবং রিকশা চালিয়েই কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরের দিকে অজ্ঞাতপরিচর একজন রিকশাচালক আশঙ্কাজনক ও গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে তাঁদের বাড়ির সামনের একটি দোকানের কাছে রেখে চলে যান। স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সুমনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের মারাত্মক চিহ্ন দেখা যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অবস্থার অবক্ষয় দেখে পরিবারের সদস্যরা দেরি না করে তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ওই দিন রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের দাবি, সুমনের শরীরের জায়গায় জায়গায় নির্মম নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁকে ধরে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে সদর উপজেলার বিলভাদুড়ি এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে একটি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় একটি গোষ্ঠী ওই চুরির সাথে সুমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সন্দেহ করে আসছিল। সেই সন্দেহের জের ধরেই রবিবার দিনের কোনো এক সময়ে সুমনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর ওপর চলে অমানসিক শারীরিক নির্যাতন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, নির্যাতনের একপর্যায়ে সুমনের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা নিজেদের দায় এড়াতে একটি রিকশায় করে তাঁকে বাড়ির কাছে রেখে গা ঢাকা দেয়। খবর পেয়ে স্বজনেরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মর্মান্তিক এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের না হলেও নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অভিযুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।


