পাবনায় শিশু কলি হত্যা: ক্ষুব্ধ জনতার ঘাতকের বাড়ি ভাঙচুর

পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী কামরুন্নাহার কলিকে (১০) ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান অভিযুক্ত প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ি ব্যাপক ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত গ্রামবাসী। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির এমন নৃশংস পরিণতি পুরো এলাকার মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। জুমার নামাজ শেষ হতেই কুলুনিয়া গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং একত্রিত হয়ে আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালান। মুহূর্তের মধ্যেই জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে বসতঘর ভাঙচুর করে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি ও ভয়াবহ ক্ষোভ বিরাজ করছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই হামলায় রূপ নেয়। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে শুরু থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। কিন্তু জুমার পর হঠাৎ বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী জড়ো হওয়ায় অল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্যের পক্ষে তাদের সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ট্র্যাজিক এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। ওই দিন নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি কুলুনিয়া গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের বাড়িসহ আশপাশের সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি। বাধ্য হয়ে স্বজনেরা এ বিষয়ে পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।
নিখোঁজের দীর্ঘ সাত দিন পর গত বুধবার সকালে কুলুনিয়া গ্রামে বাড়ির নিকটবর্তী একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরবর্তীতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক এবং তার ঘরের ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে।
পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আসামিরা ফুসলিয়ে কলিকে মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানেই অবোধ শিশুটির ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ধর্ষণের পর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ডোবায় লুকিয়ে রাখা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো মামলাটির তদন্ত দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।