চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সিটি ব্যাংক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কর-পরবর্তী মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪১ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৯২ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ১৬২ শতাংশ। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ০.৬ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১.৬ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকের আর্থিক ফলাফলে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে কোর ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে আয়ের প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ঋণ থেকে সুদ আয় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ খাতে আয় ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে এক হাজার ১৪৩ কোটি টাকা থাকলেও চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে এক হাজার ৩০৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া বিনিয়োগ খাত থেকেও ব্যাংকের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ খাতে আয় ৬০৩ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ১৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। মোট পরিচালন আয়ের মধ্যে বিনিয়োগ আয়ের অংশ দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশ, যা ব্যাংকের আয় কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিম্নে সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রধান আর্থিক সূচকের তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| সূচক | ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিক | ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| কর-পরবর্তী মুনাফা | ৯২ কোটি টাকা | ২৪১ কোটি টাকা | +১৬২% |
| শেয়ারপ্রতি আয় | ০.৬ টাকা | ১.৬ টাকা | বৃদ্ধি |
| ঋণ থেকে সুদ আয় | ১,১৪৩ কোটি টাকা | ১,৩০৬ কোটি টাকা | +১৪% |
| বিনিয়োগ আয় | ৬০৩ কোটি টাকা | ১,০১৪ কোটি টাকা | বৃদ্ধি |
| বিনিয়োগ আয়ের অংশ | উল্লেখ নেই | ৩২% | — |
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এ বিষয়ে বলেন, মুনাফা বৃদ্ধির হার সন্তোষজনক হলেও ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ঋণ খাতে বর্তমান প্রবণতা উদ্বেগজনক এবং এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
সার্বিকভাবে প্রথম প্রান্তিকে সিটি ব্যাংকের আর্থিক সূচকে উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। ব্যাংকের আয় বৃদ্ধিতে সুদ আয় ও বিনিয়োগ আয়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হলেও ঋণ খাতের প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার ভবিষ্যৎ আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে পারে।



