রাজধানীর বিজয়নগরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে জাতীয় পার্টির (জাপা) এক নেতার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম হাজরা শহিদুল ইসলাম বাবলু (৬৮)। তিনি বাগেরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, দুপুরের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি ফোনকল আসে। ফোনে জানানো হয়, বিজয়নগরের একটি আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে এক ব্যক্তি দীর্ঘ সময় সাড়া দিচ্ছেন না। সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পল্টন থানা পুলিশ। হোটেলের নির্দিষ্ট কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বাথরুমের ভেতর হাজরা শহিদুল ইসলাম বাবলুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সন্ধ্যার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
নিহত হাজরা শহিদুল ইসলাম বাবলু বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সেখানেই। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একজন পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাবলু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার ভাগ্নি জামাই শাহীন জানান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং চলতি বছরের রমজান মাসে একবার স্ট্রোক করেছিলেন। পরিবারের ধারণা, হোটেল কক্ষে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি স্ট্রোক বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারেন।
তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একজন রাজনৈতিক নেতার রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পর এই মৃত্যুকে ঘিরে থাকা সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



