বিদেশি ইন্টার্নদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত সংকটে

রাজধানীর মগবাজার এলাকায় অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেখানে কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন, কারণ তাদের নিজ দেশের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সোমবার ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে গিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। প্রতিনিধি দলে ভারত ও মালদ্বীপের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। তারা প্রথমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাঁকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। পরে তারা লিখিত আবেদন জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নিজেদের সমস্যার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পরবর্তীতে প্রতিনিধি দলটি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে গিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সেখানে মহাপরিচালক অনুপস্থিত থাকায় তারা পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলমের সঙ্গে আলোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনার পরও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান বা সুস্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জনের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করছেন এবং দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ইন্টার্ন চিকিৎসকের সংখ্যা ৩৫০-এরও বেশি।

বিদেশি ইন্টার্নরা জানান, তাদের দেশের নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন শেষ করার পর সেই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর বা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত মানবিক বিবেচনায় একটি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

একজন বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর হঠাৎ করে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) জানান, এখনো পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়া যায়নি। তবে আবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৭ মে হাসপাতালটিতে একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালটির কার্যক্রমে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিচে বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

বিষয় বর্তমান অবস্থা
হাসপাতাল কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ
বিদেশি ইন্টার্ন সংখ্যা ৩০ জনের বেশি
মোট ইন্টার্ন চিকিৎসক ৩৫০ জনের বেশি
সংশ্লিষ্ট দেশ ভারত, মালদ্বীপসহ অন্যান্য
প্রধান সংকট ইন্টার্নশিপ স্থানান্তর অসম্ভবতা
প্রশাসনিক পদক্ষেপ তদন্ত কমিটি গঠন

বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত না এলে বিদেশি ইন্টার্নদের শিক্ষাজীবন ও পেশাগত ভবিষ্যৎ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।