কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগারে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোতালেবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার পর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিদ্যালয়ে টিফিনের বিরতি চলছিল। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীটি বিদ্যালয়ের শৌচাগারে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোতালেব।
অভিযোগ রয়েছে, শৌচাগারে ছাত্রীটিকে একা পেয়ে ওই শিক্ষক তার ওপর ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষক ও ছাত্রীর মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। নিজেকে রক্ষা করতে ছাত্রীটি সেখান থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। পরে সে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে ঘটনাটি জানায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ জানায়, অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন নেতার মাধ্যমে মধ্যরাত পর্যন্ত দেন-দরবার চলার অভিযোগও রয়েছে। একই সময়ে সংবাদকর্মীরা ঘটনাটির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সোমবার গভীর রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মোতালেবকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
আব্দুল মোতালেব দক্ষিণ রামখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি দক্ষিণ রামখানা ভূঁইয়াটারী এলাকার বাসিন্দা।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামূল হক প্রধান জানান, ঘটনার পর মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর গ্রেপ্তার শিক্ষককে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত শুনানি শেষে আব্দুল মোতালেবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ তাকে জেলহাজতে পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি মামলার তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।


