বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দূতাবাস ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে ইমেইলের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদা দাবি করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। দেশে দায়িত্বরত বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই এই অপতৎপরতার মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ৩-৪টি বিদেশি দূতাবাস ও একাধিক সরকারি দপ্তরে ইমেইলের মাধ্যমে আর্থিক দাবি এবং হুমকি সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
তদন্তের প্রাথমিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে ডিবি প্রধান বলেন, প্রতারক চক্রটি ইমেইলে চাঁদা আদায়ের জন্য যেসব বিকাশ নম্বর ব্যবহার করেছে, সেগুলোর মালিকদের শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩-৪ জনকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও জানা গেছে তারা সম্পূর্ণ নিরীহ এবং ঘটনা সম্পর্কে একেবারেই অনবহিত। মূলত সাধারণ ও নিরপরাধ নাগরিকদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে চক্রটি তাদের বিকাশ নম্বরগুলো ব্যবহার করেছে।
তবে সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলা কিংবা হাসপাতালকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে এই চক্রটির কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে স্পষ্ট করেছে পুলিশ। এটি একটি পৃথক ডিজিটাল প্রতারক গোষ্ঠী।
সংঘবদ্ধ চক্রটি ইতোপূর্বে কিছু ক্ষেত্রে কৌশল খাটিয়ে সামান্য পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতে পারলেও বড় ধরনের কোনো সফলতা পায়নি। ইতোমধ্যে মূল চক্রের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং আরও ৩-৪ জন সন্দেহভাজন গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের চেষ্টা চালানো এই চক্রটির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের অন্য কোনো থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আগের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না তা যাচাই করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পূর্বের কোনো মামলার তথ্য না পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, অতি সম্প্রতি নতুন কৌশল অবলম্বন করে চক্রটি এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


