ভারতের সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ বাদ দেওয়ার দাবি আরএসএস নেতার

ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবল।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) নয়াদিল্লিতে ‘ভারতের জরুরি অবস্থার ৫০ বছর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।

হোসাবল বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে। প্রায় ২১ মাস স্থায়ী সেই জরুরি অবস্থাকে বিরোধীরা ভারতের গণতন্ত্রের ‘অন্ধকারতম অধ্যায়’ বলে উল্লেখ করে আসছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দ দুটি সংযোজন করা হয়। অথচ এই দুটি শব্দ ভারতের মূল সাংবিধানিক চেতনাতেই ছিল না।

আরএসএস নেতা প্রশ্ন তোলেন, ‘জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্রকে হত্যা করে সংবিধানে যুক্ত করা এই শব্দ দুটি কি এখনো বহাল রাখা উচিত? জনগণের মতামত ছাড়াই এগুলো সংযোজন করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এই শব্দ দুটির উপযোগিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীসহ কয়েকজন ব্যক্তি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দ দুটি সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।

হোসাবলের বক্তব্যের মাধ্যমে ভারতের রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংবিধানিক কাঠামো নিয়ে বিতর্ক নতুন করে চাঙ্গা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

খবরওয়ালা/এন

 

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।