কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের অতর্কিত পাথরাঘাতে পুলিশের একটি টহল গাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সহিংস হামলায় ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান এবং উপপরিদর্শক (এসআই) আশিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে শহরের ঐতিহ্যবাহী ভৈরবপুর ২৯ নম্বর রেলওয়ে সেতুর সংলগ্ন নির্জন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ভৈরবপুর এলাকার বাসিন্দা সাইম (৩০), পঞ্চবটি এলাকার রবিন (৩৭) এবং জগন্নাথপুর এলাকার রাজিব। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি যান ভাঙচুরের বিষয়টি স্বীকার করেছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভৈরব বাসস্ট্যান্ড ও ট্রেন স্টেশন সংযোগ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে একটি ছিনতাইকারী চক্র উৎপেতে থাকত। বৃহস্পতিবার ভোরে গণঅধিকার পরিষদ নেতা ইমতিয়াজ কাজল প্রাতঃভ্রমণে বের হলে এক ভুক্তভোগী যাত্রী তাকে জানান যে ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। ছিনতাইকারীদের ভয়ে অন্য যাত্রীরা স্টেশনে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। ওই নেতার সহায়তায় যাত্রীরা নিরাপদে স্টেশনে পৌঁছানোর পরপরই খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে হাজির হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে রেললাইনের পাশে লুকিয়ে থাকা ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ছিনতাইকারী দল আত্মরক্ষার্থে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল ও পাথর ছুড়তে থাকে। পাথরের আঘাতে পুলিশের সরকারি গাড়ির সামনের উইন্ডশিল্ড ও গ্লাস চুরমার হয়ে যায়। হঠাৎ উড়ে আসা পাথরের আঘাতে ওসিসহ এসআই আশিক শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হন।
হামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাৎক্ষণিক চিরুনি অভিযান চালিয়ে মূল তিন অভিযুক্তকে আটক করে। ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৩ জনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে।


