টাঙ্গাইলের মধুপুরে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে জিহাদ নামের আট বছরের এক শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে উপজেলার বেরিবাইদ ইউনিয়নের গুবোদিয়া গ্রামে নির্মম এই ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির ওপর নির্যাতনের একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে মুহূর্তেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নির্যাতিত শিশুটির নানা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় অভিযুক্ত দোকানদারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু জিহাদ স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোটবেলাতেই বাবা-মা আলাদা হয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান। ফলে শৈশব থেকেই শিশুটি বেরিবাইদ ইউনিয়নে নানার আশ্রয়ে থেকে লেখাপড়া ও বড় হচ্ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতের দিকে গুবোদিয়া গ্রামের স্থানীয় মোড়ের দোকানদার মফেজ উদ্দিনের (৬০) দোকানে যায় শিশু জিহাদ। এ সময় ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা চুরির মিথ্যা সন্দেহ প্রকাশ করে তাকে আটক করেন মফেজ। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রকাশ্যে ওই শিশুকে মারধর শুরু করেন ওই দোকানদার। একপর্যায়ে নির্দয়ভাবে দোকানের পাশের একটি কাঠের খুঁটির সঙ্গে হাত বেঁধে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
শিশুর করুণ আর্তনাদ শুনে উপস্থিত কয়েকজন গোপনে মোবাইল ফোনে নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শিশুটির নানা স্থানীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি শরীরের একাধিক স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষত নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিশু অধিকার সুরক্ষা কর্মী ও স্থানীয়রা বলছেন, যেকোনো চুরির অভিযোগ থাকলেও একজন কোমলমতি শিশুকে এমন প্রকাশ্যে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, শিশু নির্যাতনের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। নির্যাতিত শিশুর নানা মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে অভিযুক্ত মফেজ উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে থানায় লিখিত মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


