ময়মনসিংহের নান্দাইলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় রহস্যজনক নির্যাতনের শিকার এক তরুণী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুটি পৃথক ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
নান্দাইল উপজেলার একটি গ্রামে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ১৩ বছর বয়সী ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ৫৮ বছর বয়সী এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে স্কুলে যাতায়াতের পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। ঘটনার দিন দুপুরে মেয়েটির মা নানার বাড়িতে থাকায় ঘর খালি ছিল। এ সুযোগে ঘরে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ওই প্রতিবেশী এবং কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভুক্তভোগী ঘটনাটি পিতামাতাকে জানালে শুক্রবার রাতে মেয়েটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্যদিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নির্যাতনের শিকার এক তরুণীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাচার বিয়ে উপলক্ষে কেনাকাটা ও রূপচর্চার উদ্দেশ্যে পার্লারে যান ওই তরুণী। সেখান থেকে বের হয়ে তিনি রাসেল নামের এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে ওঠেন। এর কিছুক্ষণ পরই পাশের একটি বিলে তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হলে পরদিন তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে সড়ক দুর্ঘটনা ও বমির কথা বলে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভেড়ামারা থানার উপপরিদর্শক মইনুল ইসলাম জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে সাবেক স্বামী আবু বক্কর ও রাসেলসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন, যেখানে পূর্বশত্রুতার জেরে মারধরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর মা ও নানি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মেয়েটি মৃত্যুর আগে তিন-চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করেছে বলে তাঁদের কাছে দাবি করেছিল। তবে মেয়ের বাবা থানায় দেওয়া অভিযোগে পূর্বশত্রুতার জেরে মারধরের কথা লিখেছেন। এজাহারের অসংগতি ও ধর্ষণের অভিযোগ—উভয় দিক মাথায় রেখেই সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছে পুলিশ।


