মাগুরা: ২০১৫ সালে মাগুরার শালিখা উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমানকে তথাকথিত ‘ক্রসফায়ারের’ নামে গুলি করে হত্যার মামলায় সাবেক এক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আসামিরা হলেন শালিখা থানার তৎকালীন ওসি বিপ্লব কুমার নাথ এবং তৎকালীন এসআই ইসমাইল হোসেন। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) মাগুরার শালিখা আমলি আদালতে তাদের হাজির করে জামিনের আবেদন জানানো হলে বিচারক বর্ণালী রানী তা না মঞ্জুর করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত এসআই ইসমাইল হোসেন পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী থানায় কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায়। অন্যদিকে বিপ্লব কুমার নাথ বরিশাল নৌ-পুলিশে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রের তথ্যমতে, ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মশিয়ার রহমানকে নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান তৎকালীন ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেন। পরবর্তীতে তাকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় ঘটনাটিকে আত্মরক্ষা ও ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখিয়ে শালিখা থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করেছিল পুলিশ।
দীর্ঘ দিন পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিহত মশিয়ার রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর মাগুরার আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে শালিখা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর শালিখা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। স্থানীয় অধিবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকালে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং ভুয়া বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে প্রাণহানি ঘটানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে একাধিকবার কল ও মোবাইল খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। শালিখা থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদারকি করছেন। ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মহব্বত খান জানান, পিরোজপুরে কর্মরত সদস্য গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার দাপ্তরিক অনুমোদন তার নেই। আলোচিত এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেফতার ও কারাবাস মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে।


