মানিকগঞ্জে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জন সরকারি হাসপাতালে এবং চারজন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে একই সময়ে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নিয়মিত দৈনিক ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সাতজন, সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আটজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে চারজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ জনে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতা লাভ করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী। বছরের শুরু থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মানিকগঞ্জ জেলায় মোট ১ হাজার ১৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৯৭ জন ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ নিজ আবাসে ফিরে গেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মানিকগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ৮৭৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সদর হাসপাতালে সর্বাধিক ২৪৮ জন, সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩৭ জন, ঘিওরে ৬০ জন, সিংগাইরে ৪২ জন, শিবালয়ে ৪২ জন, হরিরামপুরে ৩৯ জন এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ জন রোগী ভর্তি হন। জেলা সদরের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শনাক্ত হয়েছেন ২৮১ জন ডেঙ্গু রোগী।
সরকারি হাসপাতালের বাইরে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও নিবন্ধিত ক্লিনিকগুলোতে চলতি বছরে এ পর্যন্ত সর্বমোট ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর মানিকগঞ্জ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট একজনের মৃত্যু হয়েছে। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বাসা-বাড়ি ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।


