নিহত খুশি বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা খোকনের মেয়ে এবং ব্লেড বাবুর স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের মা। প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুশি বেগম তার বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তার মাথায় লাগে। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার পরপরই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় খুশি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মায়ের বর্ণনায় উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ মুহূর্তের কথা। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার মেয়ে বাড়ির সামনে ছিলেন। একপর্যায়ে মিরাজ নামের এক যুবক তাদের কাছে এসে মিরাজ কেমন আছেন, এমন কথা জানতে চান। এর পরপরই দুর্বৃত্তরা তার চোখের সামনে মেয়ের মাথায় গুলি চালায়। হামলা শেষে তারা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
মায়ের সামনেই মেয়েকে গুলি করে হত্যার এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে এমন হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হামলার কারণ উদ্ঘাটনে অনুসন্ধান শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, কারা এবং কী কারণে খুশি বেগমকে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ ও আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মাদককে কেন্দ্র করে বিরোধের সম্ভাবনা সামনে এলেও এর পক্ষে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের সঙ্গে নিহতের কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত কি না, এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিহতের মায়ের দেওয়া বর্ণনাও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হামলার আগে এক যুবকের কাছে আসা এবং এর পরপরই গুলি চালানোর ঘটনাটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


