গাজীপুরের কালীগঞ্জে মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মাদকাসক্ত জামাতার নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন এক বৃদ্ধ বাবা। কলার দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে কুড়াল দিয়ে কোপানোয় আব্দুল মজিদ মোড়ল (৭০) নামে ওই বৃদ্ধ কলার ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর গুদারাঘাটসংলগ্ন কলাপট্টি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত আব্দুল মজিদ মোড়ল জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলতু মোড়লের ছেলে।
ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহতেরই আপন জামাতা মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুজা সরকার। তিনি উত্তর জামালপুর সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের দাবি, যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মোজাম্মেল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা এবং নিয়মিত মাদক সেবনের অপরাধে পরিচিত।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মজিদের মেয়ে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে মোজাম্মেলের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে মারাত্মক পারিবারিক কলহ লেগেই ছিল। মোজাম্মেল প্রতিনিয়ত প্রচণ্ড মাদক সেবন করে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে মারধর ও মানসিক যন্ত্রণা দিতেন। জামাতার এই পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শাহানাজ বাধ্য হয়ে বারবার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সম্প্রতি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
স্ত্রী বাবার বাড়িতে অবস্থান করলেও মোজাম্মেল সেখানে গিয়ে প্রায়ই গালিগালাজ ও নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। মেয়েকে অনবরত নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় শ্বশুর আব্দুল মজিদ মোড়লের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মোজাম্মেল। এ নিয়ে শ্বশুরের সঙ্গে জামাতার গভীর শত্রুতা সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার বিকেলে জামালপুর বাজারে নিজের কলার দোকানে কাজ করছিলেন বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ মোড়ল। ঠিক সেই সময় একটি ট্রলি ব্যাগের ভেতরে ধারালো কুড়াল লুকিয়ে দোকানে ঢোকেন মোজাম্মেল। কলার দোকানে ঢুকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে বৃদ্ধ শ্বশুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। ঘাড়ে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কোপ দিলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মজিদ মোড়ল।
ঘটনার আকস্মিকতায় বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষজন এগিয়ে এলে ঘাতক মোজাম্মেল সেখান থেকে দ্রুত সটকে পড়েন। উপস্থিত লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় বৃদ্ধকে উদ্ধার করে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং ঘাতক জামাতাকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করে। প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারে ঢুকে একজন বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে এভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


