মৌলভীবাজারের রাজনগরে বহুল আলোচিত আজিজুল মিয়া হত্যা মামলার দীর্ঘ এক দশক পর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে দুই সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং এই হত্যাকাণ্ডে সহায়তার দায়ে অপর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি চার আসামিকে সম্পূর্ণ খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক ফাহমিদা খাতুন এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রকাশ করেন।
আদালতের দেওয়া রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন রাজনগর উপজেলার মুনিয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা দুই ভাই—রুবেল মিয়া ও রুমান মিয়া। অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত দুই আসামি হলেন একই গ্রামের জয়নাল আবেদীন এবং রিপন মিয়া। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত রুবেল মিয়া ও রিপন মিয়া ছাড়া বাকি আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত আজিজুল মিয়া (৪৫) স্থানীয় পঞ্চায়েতের একজন সম্মানিত বিচারক বা সালিশকার ছিলেন। সমাজ ও গ্রামে বিভিন্ন বিরোধ নিস্পত্তিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। ২০১৩ সালে স্থানীয় এক জটিল সালিশ-বিচারকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে আজিজুল মিয়ার মারাত্মক শত্রুতা ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই পুরোনো শত্রুতার জের ধরে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে আজিজুল মিয়ার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আজিজুল মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে রাজনগর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আনীত সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে বিচারক এই রায় প্রদান করেন। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর চার আসামি—স্বপন মিয়া, জহির মিয়া, কমরু মিয়া ও ফয়ছল মিয়াকে খালাস দেন আদালত।
আদালতের এই রায়ে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত আজিজুল মিয়ার স্বজন ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসেকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হলো। জঘন্য অপরাধ করে কেউ আইনি সাজা থেকে রেহাই পাবে না, এই রায় তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে তারা বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।


