ম্যান সিটির শাস্তির সংশয়ে হালান্ডের ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত বাবার

ইংলিশ ফুটবলের পরাশক্তি ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যেই দলের প্রধান তারকা আর্লিং হালান্ডের দলবদল নিয়ে নতুন করে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্থিক অনিয়ম ও আর্থিক ফেয়ার প্লে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্লাবটি যদি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো শাস্তির মুখোমুখি হয়, তবে ইতিহাদ স্টেডিয়াম ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নরওয়েজিয়ান এই মারাত্মক স্ট্রাইকার। তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ডের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যেও এমন ইঙ্গিত পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

২০০৯ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী একাধিক বছরে সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের মোট ১১৫টি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের স্বাধীন কমিশনের বিস্তারিত তদন্ত ও শুনানি চললেও এখনো চূড়ান্ত শাস্তির কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে বিশ্ব ফুটবলে এখন জোর গুঞ্জন চলছে এই মামলার সম্ভাব্য রায় নিয়ে। যদি সিটিকে পয়েন্ট কর্তন কিংবা ইংলিশ ফুটবল লিগের নিচের স্তরে অবনমনের মতো চরম শাস্তি পেতে হয়, তবে নরওয়ের গোলমেশিন হালান্ডসহ একাধিক শীর্ষ তারকা খেলোয়াড় যে অন্য ক্লাবে পাড়ি জমাবেন, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

ছেলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আলফ-ইঙ্গে ইতালি ও ইউরোপীয় ফুটবলের পুরনো একটি পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে জুভেন্টাসের বিরুদ্ধেও ম্যাচ পাতানোসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে আমাদের আদালতের চূড়ান্ত ও আপিল প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। শুনানি ও রায়ের সিদ্ধান্ত যেকোনো সময় আসতে পারে। যদিও আমরা দেখছি, বর্তমানে সিটির প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমর্থক, অন্যান্য ইউরোপীয় ক্লাব এবং বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের অনেকেই ক্লাবটির জন্য কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দেখতে আগ্রহী।’

চূড়ান্ত রায় সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আপিলের শেষ সিদ্ধান্ত ঠিক কী আসে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। সিটির কর্তৃপক্ষ মনে করছে, নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত ও শক্ত কাগজপত্র তাদের হাতে রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত আইনি রায় না আসা পর্যন্ত আগ বাড়িয়ে কিছু না ভেবে অপেক্ষা করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে।’

আলফ-ইঙ্গের এই পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সিটির ওপর আরোপিত মামলার রায়ের ওপরই ঝুলছে হালান্ডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত। ক্লাব যদি আইনি প্রক্রিয়ায় রেহাই পায় তবে তিনি হয়তো ম্যানচেস্টারেই থেকে যাবেন। তবে অবনমন বা বড় কোনো প্রশাসনিক বিপর্যয় ঘটার পূর্বাভাস মিললে হালান্ডকে বিকল্প কোনো আশ্রয়ের কথা ভাবতেই হবে।

মাঠের বাইরের এসব জটিল বিষয় নিয়ে আর্লিং হালান্ড নিজে যে খুব একটা বিচলিত নন, তাও পরিষ্কার করেছেন তার বাবা। আলফ-ইঙ্গে বলেন, ‘আর্লিং ফুটবলপ্রেমী মানুষ, সে মাঠে নেমে কেবল সর্বোচ্চ খেলাটাই উপহার দিতে চায়। সে সব ধরনের মানসিক চাপ এড়িয়ে শুধু নিজের পারফরম্যান্সে মনোযোগ রাখছে। আসলে মাঠের বাইরের বিষয়গুলো নিয়ে আমরাই একটু বেশি দুশ্চিন্তা করছি, সে কিন্তু একেবারেই শান্ত রয়েছে।’

চলতি ফুটবল মৌসুমে আর্লিং হালান্ডের গোলের ক্ষুধা বা খেলার ধার কিন্তু সামান্যও কমেনি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম নয়টি ম্যাচে মাঠে নেমে ইতিমধ্যেই ৯টি গোল নিজের ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। অবশ্য গত সপ্তাহান্তে নিজেদের হোম গ্রাউন্ডে ব্রাইটনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হওয়ার ম্যাচে তার পা থেকে কোনো গোল আসেনি।

ম্যানচেস্টার সিটিতে হালান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই টানাপোড়েনের সুযোগ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ ক্লাবগুলো। ইংলিশ প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনাল নাকি তাকে দলে ভেড়াতে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। এছাড়া স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ দীর্ঘদিন ধরেই হালান্ডকে সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখে আসছে। ২০২৬ সালের সম্মানজনক ব্যালন ডি’অর ভোটের লড়াইয়ে অষ্টম স্থানে শেষ করা এই স্ট্রাইকারকে ঘিরে তাই ইউরোপীয় দলবদলের বাজারে নতুন মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।