যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সিলেটের বিশ্বনাথের এক প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত মাছুম আহমদের বয়স ৪০ বছর। সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব লন্ডন এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে।
নিহত মাছুম আহমদ সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার আমির আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে দেশে পৌঁছালে বিশ্বনাথের নিজ বাড়িতে শোকের আবহ নেমে আসে। স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানাতে বাড়িতে ভিড় করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাছুমের মৃত্যুর খবর প্রথমে যুক্তরাজ্যে থাকা তাঁর ছোট ভাই মানিক মিয়ার কাছে পৌঁছায়। মানিক মিয়া জানান, লন্ডনে ভোররাতের দিকে হঠাৎ স্থানীয় পুলিশ তাঁদের বাসায় যায়। পুলিশ প্রথমে জানতে চায়, সেটি মাছুম আহমদের বাসা কি না। পরে মাছুমের ছবি দেখিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করার পর পুলিশ সদস্যরা জানান, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
হঠাৎ পুলিশের কাছ থেকে ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন। কী ঘটেছিল, কোথায় এবং কার সঙ্গে মাছুমের বিরোধ হয়েছিল—এসব বিষয়ে তখনও তাঁরা কোনো পরিষ্কার তথ্য জানতে পারেননি।
নিহতের বাবা আমির আলী জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যুক্তরাজ্যে থাকা তাঁর ছোট ছেলে মারুফ আহমদ ফোন করে মাছুমের মৃত্যুর খবর দেন। ছেলের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারটি ভেঙে পড়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মাছুমকে কারা গুলি করেছে এবং কেন তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় পুলিশের তদন্ত চলছে কি না বা এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এমন সহিংসতার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে অপরাধপ্রবণ এলাকায় চলাফেরা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারগুলোর দুশ্চিন্তা রয়েছে। তবে মাছুম আহমদের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
মাছুমের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁর মৃত্যুর কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি মরদেহ দেশে আনা হবে কি না এবং দাফনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, সে বিষয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মাছুম আহমদের আকস্মিক মৃত্যুতে বিশ্বনাথের নিজ এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—কী কারণে বিদেশের মাটিতে তাঁকে প্রাণ দিতে হলো এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত। তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছে তাঁর পরিবার।

