রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ২৯টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও যানবাহন জব্দের পাশাপাশি দুজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন গ্রেপ্তার ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগে পরিচালিত অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। এ বিভাগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭৫ জন। এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৭৪ জন, লালবাগ বিভাগে ৬৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৩ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে গুলশান বিভাগ থেকে ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩৪ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটটি বিভাগের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট গ্রেপ্তারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মিরপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে।
বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তারের চিত্র
| পুলিশ বিভাগ | গ্রেপ্তারের সংখ্যা |
|---|---|
| রমনা | ২৭ জন |
| লালবাগ | ৬৯ জন |
| ওয়ারী | ৭৪ জন |
| মতিঝিল | ৫৯ জন |
| তেজগাঁও | ৬৩ জন |
| মিরপুর | ১৭৫ জন |
| গুলশান | ৩৭ জন |
| উত্তরা | ৩৪ জন |
| মোট | ৫৩৮ জন |
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও অপরাধে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪০ পিস ইয়াবা, ৯০ পুরিয়া হেরোইন এবং ২২২ পুরিয়া গাঁজা। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি পাঁচটি মোবাইল ফোন, দুটি চাকু, একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযানে নগদ ১৩ হাজার ৮২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে দুজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের কী পরিস্থিতিতে পাওয়া গেছে এবং তাঁরা কোনো অপরাধের শিকার কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক কারবার প্রতিরোধ এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পুলিশি তৎপরতার অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন নির্দিষ্ট মামলার আসামি, কতজন মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত এবং কতজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ডিএমপি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযানে অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।


