‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের মতো কর্মসূচি পালন করছেন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
আজ সকাল থেকেই সচিবালয়ের প্রধান ফটকে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট সোয়াত মোতায়েন করা হয়েছে। কেবল সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সচিবালয় ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও শোভাযাত্রার ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানিয়েছে।
সকালে সাংবাদিকদেরও সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিক প্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ সারাদেশের সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদেরও সচিবালয়ের বাইরের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ সংশোধন করে নতুন ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন এই অধ্যাদেশে ৪৫ বছর আগের কিছু ‘নিবর্তনমূলক ধারা’ পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা খর্ব করবে। এ কারণে তারা অধ্যাদেশটিকে ‘কালাকানুন’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
সচিবালয় ঘিরে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নানা স্তরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্দোলন কী মোড় নেয় এবং সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
খবরওয়ালা/এমএজেড



