চরফ্যাশন উপজেলায় সম্পত্তির জন্য মাকে মারধর এবং ভরণ-পোষণ না দেওয়ার অভিযোগে এক বৃদ্ধা তার ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।
চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিবি ফাতেমা নামের ওই বৃদ্ধা বাদী হয়ে তার ছেলে মো. মাকসুদ মোল্লা এবং ছেলের স্ত্রী মোসা. কহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মাকসুদ মোল্লা ও কহিনুর বেগমকে আগামী ২৮ জুলাই আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মাকসুদ মোল্লা আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের হারুন মোল্লার ছেলে এবং শশীভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রী কহিনুর বেগমও একই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা।
বৃহস্পতিবার বিবি ফাতেমা সাংবাদিকদের জানান, তার ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে দিয়েছেন। অন্যান্য ছেলেরা মায়ের ভরণ-পোষণ দিলেও, শিক্ষক মাকসুদ তা দেন না। শুধু তাই নয়, সম্পত্তির লোভে তিনি বিভিন্ন সময়ে মাকে মারধরও করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার মাকসুদ ও তার স্ত্রী কহিনুর বহিরাগতদের নিয়ে মুজিবনগর ইউনিয়নের সম্পত্তি দখল করতে যান এবং সেখানে তার ছোট ভাই সফিককে মারধর করেন। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও গুরুতর আহত করা হয়। পরে বিবি ফাতেমাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিবি ফাতেমার অভিযোগ, তিনি বড় ছেলে মাকসুদকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। কিন্তু মাকসুদ চাকরি পাওয়ার পর থেকেই ছোট ভাইবোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন এবং প্রায়ই বাবা-মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। আট বছর আগে মাকসুদ তাদের ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তারা মুজিবনগরের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে কৃষক ছেলে সফিকের কাছে আশ্রয় নেন। সেখানেও মাকসুদ সম্পত্তির জন্য তার বাবাকে মারধর করেন, যার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।
বিবি ফাতেমা বলেন, গত শুক্রবার মাকসুদ ও তার স্ত্রী কহিনুর লোকজন নিয়ে এসে সম্পত্তি দখল করতে চাইলে ছোট ছেলে সফিক বাধা দেয়। সফিককে মারধর করা হলে তিনি বাধা দিতে গিয়ে নিজেও আহত হন। তিনি আদালতের কাছে এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মাইনুল ইসলাম নাবিল সরমান জানান, দণ্ডবিধি ৩২৩/৫০৬ (২) ধারায় আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। বিচারক মাকসুদ ও কহিনুরকে আগামী ২৮ জুলাই আদালতে হাজির হতে বলেছেন।
খবরওয়ালা/টিএস



