কৃষিকাজের ভরা মৌসুমে রাসায়নিক সার না পেয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। শনিবার সকালে উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা গাড়াগঞ্জ বাজারে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ চাষিরা সড়ক বন্ধ করে দিলে সাময়িকভাবে ওই রুটে সব ধরনের যান চলাচল অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জমিতে সুষম সার প্রয়োগের উদ্দেশ্যে সকালে শত শত কৃষক গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারে অবস্থিত বিসিআইসি ডিলার ‘শুভ এন্টারপ্রাইজ’-এর সামনে ভিড় জমান। দীর্ঘ সময় সার পাওয়ার আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও হঠাৎ ডিলারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, দোকান থেকে তাদের সার দেওয়া হবে না। এ কথা শোনামাত্র উপস্থিত চাষিদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ডিলারের এমন খামখেয়ালি আচরণের প্রতিবাদে কৃষকেরা তাৎক্ষণিক একজোট হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।
একপর্যায়ে উত্তেজিত কৃষকেরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা আঞ্চলিক সড়কের ওপর বড় বড় গাছের গুঁড়ি ও অন্যান্য কাঠের খণ্ড ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এর ফলে সড়কের দুই পাশে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও থ্রি-হুইলারসহ অসংখ্য যানবাহন আটকে পড়ে। টানা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই আকস্মিক সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রী ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র শৈলকুপা উপজেলা কৃষি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা রোষানলে পড়া ক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তাৎক্ষণিক সারের সুষম বন্টনের আশ্বাস দেন। কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে এবং শুভ এন্টারপ্রাইজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের মাঝে সার বিক্রি শুরু হলে বেলা বাড়ার পর কৃষকেরা শান্ত হন এবং সড়কের ওপর থেকে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে অবরোধ তুলে নেন। পরবর্তীতে ওই সড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
উদ্ভুত পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ডিলারের সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। তবে কৃষি বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপে সার বিক্রি নিশ্চিত করায় উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষকদের যেন সারের জন্য লাইনে ভোগান্তি বা সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে না হয়, সে বিষয়ে ডিলারদের প্রতি কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


