সিলেট নগরীর একটি মাদ্রাসায় ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় আরবি বিভাগের শিক্ষক মতিউর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে নগরীর কাজিরবাজার এলাকার ওই মাদ্রাসা থেকে মতিউর রহমানকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির মায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি এখন তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও শিশুটির বক্তব্য অনুযায়ী, আরবি বিভাগের শিক্ষক মতিউর রহমান ওই শিশুসহ আরও একজন শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে ডেকে মাথা ও পা টিপে দিতে বলেন। একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীটি কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলে শিক্ষক দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে একা থাকতে বলেন। পরে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয় এবং মারধরের অভিযোগও করেছে শিশুটি।
শিশুটির ভাষ্য, ওই শিক্ষক এর আগেও আরেকজনের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছেন। তবে সেই শিক্ষার্থী বর্তমানে সেখানে নেই বলে জানিয়েছে সে। ঘটনার পর শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি জানায় এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করে।
শিশুটির মা বলেন, তাঁর সন্তান নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশু একই ধরনের ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করেন তিনি।
শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা এবং দ্রুত তদন্তের সুযোগ থাকা জরুরি। তবে এই মামলায় অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্ত শিক্ষককে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যাবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বর্তমানে শিক্ষক মতিউর রহমান কারাগারে রয়েছেন।


