সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নিগ্রহের ঘটনায় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) ক্যাম্পাসে ছাত্র সমিতি নির্বাচন ও প্যানেল গঠনকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সামনে এ অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রহমান রাঈদ এবং সাফকাত তাসিন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত রাঈদকে চিকিৎসার জন্য সিলেট শহরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত শিক্ষার্থী সাফকাত তাসিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থী সাফকাত তাসিন জানান, ছাত্র সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে অরাজনৈতিক সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও স্বতন্ত্র প্যানেল দেওয়ার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার পর থেকেই ক্যাম্পাসের একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর ক্রমাগত মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক দলীয় কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া, হলে আসন বাতিলের ভয় দেখানো এবং হুমকি-ধামকি দেওয়ার মতো অভিযোগও তোলেন তিনি।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাফকাত বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে কয়েকজন ডেকে নিয়ে প্যানেল গঠনের বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষার্থী রাজেশ বাছাড় তার কলার চেপে ধরেন এবং সাহস নামের অন্য এক শিক্ষার্থী তাঁকে সরাসরি ঘুষি মারেন। এ সময় তাকে বাঁচাতে সহপাঠী রাঈদ ও আশরাফ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। রাঈদকে ছাতা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় এবং মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে সিকৃবি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাজেশ বাছাড় তার বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, অনুষদের সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে আশরাফের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ বেশ কিছুদিন ধরে অপ্রাসঙ্গিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ছাত্র সমিতির নির্বাচন সংক্রান্ত এক আলোচনায় তারা বর্তমান ভিপিকে অপমান করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

রাজেশ বাছাড় আরও বলেন, বৃহস্পতিবার মূলত উভয় পক্ষের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসন ও সমঝোতার লক্ষ্যেই আলোচনার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে নিহাল নামের এক শিক্ষার্থী হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিনিয়ররা এগিয়ে গেলে পেছন থেকে রাঈদ হাত তোলেন। সে সময় হাতাহাতির মধ্যে পড়ে রাঈদ রাস্তায় আছাড় খেয়ে পড়েন। এতে তাদের পক্ষেরও তিনজন সিনিয়র শিক্ষার্থী আঘাত পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিকৃবি কোষাধ্যক্ষ এ টি এম মাহবুব-ই-এলাহী সার্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অনুষদের ডিনকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিশদ অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।