সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন শিশুসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবার বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশিদের বহনকারী একটি বাসকে পেছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও ছয়জন।
নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সৌদি আরবে বাংলাদেশি মালিকানাধীন আল-আবির কোল্ড স্টোর কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, কোম্পানিটির ১৩ জন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য মদিনায় জিয়ারত শেষে একসঙ্গে জেদ্দায় ফিরছিলেন। পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারান। আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আল-আবিরের জেদ্দা শাখার স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান (৪৫)। তাঁর বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে। দুর্ঘটনায় জিয়াউর রহমানের দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান এবং মেয়ে বুশরা মারা গেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শাকিরা ও আরেক মেয়ে ইউসরা আহত হয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একই দুর্ঘটনায় পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলম শাহ। তাঁর স্ত্রী সানজিদা ও মাত্র এক মাস বয়সী মেয়ে ফারিয়া নিহত হয়েছে। আলম শাহ নিজেও আহত হয়েছেন। তাঁর ছেলে ফয়সালও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাঁর বাড়িও টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে। আহত অন্য ব্যক্তির নাম গফুর আলম।
আল-আবির কোল্ড স্টোরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছে। নিহতদের মরদেহ সৌদি আরবেই দাফন করা হবে। পরিবারের সদস্যদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এদিকে নিহত সানজিদার ভাই শাহীন সামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, দুর্ঘটনায় তাঁর বোন সানজিদা ও ভাগনি ফারিয়া মারা গেছেন। পরিবারের আরও দুজন সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতিকে একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার ছিল। সৌদি ট্রাফিক দপ্তরের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতির কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যেতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন।
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য সড়কপথে দীর্ঘ যাত্রা প্রায়ই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। মক্কা, মদিনা ও জেদ্দার মধ্যে যাতায়াতের সময় মহাসড়কে যানবাহনের গতি বেশি থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে চালকের সতর্কতা, গতিসীমা মেনে চলা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই যাত্রায় তিন পরিবারের সাত সদস্যের মৃত্যু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের প্রাণহানির ঘটনা স্বজনদের জন্য বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের দাফনসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


