চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইমদাদুল হক (২৩) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাইস (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, স্কুলগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই ইমদাদুলের সঙ্গে নাইসের বিরোধ চলছিল। ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারাতে হলো ইমদাদুলকে।
নিহত ইমদাদুল হক আলমডাঙ্গা উপজেলার নওদা বন্ডবিল গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে। অভিযুক্ত নাইস গোবিন্দপুর গ্রামের মজনু রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর এলাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইমদাদুল ও নাইসের মধ্যে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ মীমাংসা এবং নাইসের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার উদ্দেশ্যে বুধবার রাতে তাদের বাড়িতে যান ইমদাদুল। সেখানে নাইসের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে নাইস কাঠের বাটাম দিয়ে ইমদাদুলের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ইমদাদুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর আগেই পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উজ্জ্বল হোসেন জানান, বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন ইমদাদুল। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি নাইসের বাড়িতে যান। সেখানে নাইসের বাবা-মাকে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি জানাতে চেয়েছিলেন তিনি।
উজ্জ্বল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় নাইস ঘর থেকে কাঠের বাটাম নিয়ে এসে ইমদাদুলের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এমন প্রাণঘাতী সংঘাতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনের সব কারণ, হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে লালব্রিজ এলাকা থেকে অভিযুক্ত নাইসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইমদাদুলের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এবং তার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে এই মৃত্যুর ঘটনা জননিরাপত্তা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রশ্নও সামনে এনেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আইনসম্মতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কোনো বিরোধের জেরে সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইমদাদুলের মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।


