হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ ও আগাছা পরিষ্কারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাহির মিয়া (৪৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত চালবন হাওরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত তাহির মিয়া ওই এলাকার মৃত তাজিম উল্লাহর সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে তাহির মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী জাহির উল্লাহর পরিবারের বিরোধ চলছিল বেশ কিছু দিন ধরে। সোমবার সকালে তাহির মিয়া তার দুই ভাই শহীদ মিয়া ও আনু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চালবন হাওরে নিজেদের মালিকানাধীন জমির আগাছা পরিষ্কার করতে যান। তারা কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী জাহির উল্লাহ, শরীফ ও বক্করসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। হামলা ও পাল্টা হামলায় তাহির মিয়া, তার দুই ভাই শহীদ মিয়া ও আনু মিয়া এবং স্বপ্না বেগম গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করেন। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাহির মিয়াকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত অন্য তিনজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে। বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ জানান, জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে চালবন হাওর ও আশপাশের এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।


