হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা: ২৭ জাহাজ ঘুরিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানগামী বা ইরানের বন্দর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে থাকা মোট ২৭টি জাহাজকে বাধ্য করা হয়েছে তাদের পথ পরিবর্তন করতে অথবা ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নৌ-অবরোধের পর হরমুজ প্রণালীর নির্দিষ্ট এলাকায় কোনো জাহাজই অবরোধ ভেঙে অগ্রসর হতে পারেনি। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এতে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদুলু এজেন্সি জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি নীতি ঘোষণা করে যেখানে ইরানের সব বন্দরগামী এবং বন্দর ত্যাগকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তবে একই সঙ্গে বলা হয়, যেসব জাহাজ ইরান ব্যতীত অন্য গন্তব্যে যাচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এই এলাকায় যে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।

হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র

বিষয় বর্তমান অবস্থা
অবরোধ কার্যকর শুরু ১৩ এপ্রিল
মোট প্রভাবিত জাহাজ ২৭টি
জাহাজের নির্দেশনা পথ পরিবর্তন বা ইরানে ফিরে যাওয়া
চলাচলের অবস্থা আংশিক সীমিত, কিছু রুট খোলা
প্রভাব ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে চাপ বৃদ্ধি

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ধরনের সামরিক বা কৌশলগত চাপ শুধু ইরান নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ধরনের অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠতে পারে, যা এশিয়া ও ইউরোপের আমদানি নির্ভর অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে অতীতের অবস্থান অনুযায়ী তেহরান এই ধরনের পদক্ষেপকে “অবৈধ ও উত্তেজনাপূর্ণ” হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর এই পরিস্থিতি নতুন করে কূটনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে চাপ প্রয়োগের কৌশল দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর এই সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।