চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গভীর রাতে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, রিভলভার-পদ্ধতির গান ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ এক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম নাছির উদ্দীন (৪৩)। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ধলই ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম ধলই এলাকায় নাছির উদ্দীনের নিজ বাসভবনে এই আকস্মিক ও সফল অভিযান পরিচালনা করে হাটহাজারী থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধলই এলাকার ওই বসতঘরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে বলে গোপন সূত্রে তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারী থানার একটি চৌকস দল শুক্রবার ভোরে নাছির উদ্দীনের বসতঘর ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নাছির উদ্দীনের মূল শয়নকক্ষে থাকা স্টিলের আলমারিতে অনুসন্ধান চালানো হয়।
আলমারির ওপরের ড্রয়ার থেকে একটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৭.৬৫ মিলিমিটারের চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে একই আলমারির নিচের ড্রয়ার থেকে একটি ওয়ান শুটারগান (এলজি) ও সাত রাউন্ড তাজা শটগানের কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেন কর্মকর্তারা। উদ্ধার করা কার্তুজগুলোর গায়ে লেখা রয়েছে ‘শক্তিমান এক্সপ্রেস মেড ইন ইন্ডিয়া’।
ঘটনার সত্যতা ও অভিযানের বিস্তারিত নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম ও ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে মারাত্মক সব আগ্নেয়াস্ত্রসহ আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নাছির উদ্দীন পুলিশকে জানিয়েছেন, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো তাঁর বন্ধু রাউজান এলাকার অধিবাসী মো. তৈয়বের। প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে বিদেশে পাড়ি জমানোর সময় তৈয়ব এসব অস্ত্র নাছিরের হেফাজতে রেখে যান এবং দেশে ফিরে তা ফেরত নেওয়ার কথা ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গুলি উদ্ধারের পর নাছির উদ্দীন এবং পলাতক আসামি মো. তৈয়বের বিরুদ্ধে ১৯৮৭ সালের ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় হাটহাজারী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিকে গ্রেফতারসহ অস্ত্রের নেপথ্য উৎস অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।


