আত্মগোপনে থাকার প্রায় ১৪ বছর পর ঢাকার একটি কিশোরী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. ইমন হোসেনকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর জেলার পুবাইল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রোববার (৪ অক্টোবর) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ইমন হোসেনের বয়স ৪৫ বছর। তিনি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১০ নম্বর রাণীপুকুর ইউনিয়নের জগতপুর মহাজনপাড়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমান ওরফে বাবুর ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমন হোসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান থানায় করা ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরের একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। ওই মামলায় এক কিশোরীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত ইমন হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার পরও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক ছিলেন। আত্মগোপনে থাকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। ইমনের স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ওয়ারেন্টটি বিরল থানায় পাঠানো হয়।
এরপর দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যায় পুলিশ। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সহায়তা এবং গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় তার অবস্থানের সন্ধান পাওয়ার পর সেখানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইমন হোসেনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। পরে রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর সাজা হওয়ার পরও কোনো আসামি দীর্ঘ সময় গ্রেপ্তারের বাইরে থাকলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে তার অবস্থান শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ইমন হোসেনের গ্রেপ্তার সেই ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়ারই অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে মামলার রায়, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামির কোনো আপিল বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ছিল কি না—এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত বিষয়গুলো আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোবে।


