দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯০২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে একদিকে যেমন ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে হাসপাতালে নতুন রোগীর চাপও তৈরি হচ্ছে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে সাধারণত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগী, মৃত্যু এবং বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসাধীন রোগীর তথ্য তুলে ধরা হয়। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত একটি রোগ, যা মূলত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। দিনের বেলাতেও এ মশা কামড়াতে পারে। তাই শুধু রাতে মশারি ব্যবহারের ওপর নির্ভর না করে দিনের সময়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, জানালার পাশে, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশের যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, বালতি বা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
শুধু নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই ঝুঁকি পুরোপুরি কমে না। আশপাশের বাসাবাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণস্থলেও পানি জমে থাকলে সেখান থেকে মশার বিস্তার ঘটতে পারে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাতের লক্ষণ, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা অস্থিরতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। নিজের মতো করে ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।
গত ২৪ ঘণ্টার ১ হাজার ৯০২ নতুন রোগী ভর্তি এবং নয়জনের মৃত্যুর তথ্য ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর বাড়তি নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা আরও কার্যকর হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্যের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সংক্রমণের উৎস কমানোও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


