৭৮ বছরে রামগতি রব্বানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা: অতীত ও বর্তমানের মেলবন্ধন

সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির পাতা উল্টে, এক অমোঘ টানেই ফিরে এলেন শত শত প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ৭৮ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে, রামগতি রব্বানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আঙিনায় গড়ে উঠল এক আবেগঘন মিলনমেলা। ১৯৪৭ সালে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় যে শিক্ষাগৃহের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা হয়ে উঠেছে এক আলোকবর্তিকা।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ভোরের সূর্য উঠতেই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ যেন নবজীবন পেল। সকাল ৮টায় শুরু হয় পুনর্মিলনীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।

অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোয়াজ্জম হোসেনের সভাপতিত্বে এ মিলনমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নুরুল হক।

সম্মানিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী শাখার অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. শাহ্ মো. শফিক উল্লাহ, রামগতি ও কমলনগর উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ. আর. হাফিজ উল্লাহ।

আরও উপস্থিত ছিলেন রামগতি দ্বায়রা শরীফের পীর সাহেব শাহ্ আবদুল মোহাইমেন ও শাহ্ আবদুজ জাহের, রামগতি স্টুডেন্ট কমিউনিটি ঢাকা (আরএসসিডি)-এর সাবেক সভাপতি শাহ মাহমুদুল হাসান লিমন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মিনহাজুল আবেদিন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা ছাইফ উদ্দিন, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ, অ্যাডভোকেট মিনহাজ উদ্দিন, তাওহীদুল ইসলাম তারেকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনেরা।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক মিঞা মো. নুরুল হক স্মৃতির আবেশে বলেন, “এই বিদ্যাপীঠের প্রতিটি ইট, প্রতিটি ঘাস আমার কাছে ইতিহাসের অংশ। এক সময় মাদ্রাসা শিক্ষার পথ রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর রহমতে তা ব্যর্থ হয়েছে। এখন সময় এসেছে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার। আমরা ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি ও এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছি, শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করছি।”

ড. শাহ্ মো. শফিক উল্লাহ কণ্ঠে আবেগ মিশিয়ে বললেন, “এই মাদ্রাসার ধুলাবালিতে আমার শৈশবের স্মৃতি লেগে আছে। আজ যখন ফিরে তাকাই, দেখি আমার সহপাঠীদের অনেকেই আর নেই। তবুও, ভালোবাসার টানে ছুটে এসেছি আপন নীড়ে।”

ড. হেফজুর রহমান বললেন, “ওলামায়ে কেরামের সাহচর্যে থাকা মানে সত্যের পথে থাকা। তাঁরা আলোকিত হন, সমাজকেও আলোকিত করেন। আমাদের দায়িত্ব সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, সৎ কাজে উৎসাহিত করা, মন্দকে প্রতিরোধ করা। ঐক্যবদ্ধ থেকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

অধ্যক্ষ মোয়াজ্জম হোসেন কৃতজ্ঞতায় সিক্ত হয়ে বললেন, “এই মিলনমেলা আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উন্নয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের স্বপ্ন, এই বিদ্যাপীঠ আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে।”

এ. আর. হাফিজ উল্লাহ বললেন, “আমি এই অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের ভাইদের জন্য দোয়া কামনা করছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতার অভাব প্রকট। আমাদের এমন শিক্ষানীতি দরকার যা কেবল জ্ঞান দেবে না, নৈতিকতাও গড়ে তুলবে।”

আলোচনার শেষে শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। হারানো দিনের সুর আর পুনর্মিলনীর আনন্দ মিলেমিশে এক অভূতপূর্ব আবহ তৈরি করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় এই মিলনমেলা স্মরণীয় হয়ে থাকবে সবার হৃদয়ে।
 

খবরওয়ালা/জেআর 

Tags :

নিউজ ডেস্ক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।