ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ঝুলিতে পুরলেন ৭টি উইকেট। তাঁর এমন ধারালো বোলিংয়ের ওপর ভর করেই কাউন্টি লিগে মৌসুমের ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়েছে কেন্ট, আর অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি অর্জন করেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
শনিবার ক্যান্টারবেরির ঐতিহাসিক মাঠে চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় সেশনে সফরকারী উস্টারশায়ারকে ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কেন্ট। জয়ের জন্য ৩৯০ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উস্টারশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংস থেমে যায় ২৯৫ রানে। জয়ের ব্যবধান গড়ে দেওয়া এই ইনিংসে ৫১ রান খরচ করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন ২৬ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি পেসার। এর আগে প্রথম ইনিংসেও বল হাতে প্রতিপক্ষের ওপর দাপট দেখিয়ে ৬৮ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
চলতি মৌসুমে কেন্টের হয়ে খেলার শুরুটা দারুণ করেছিলেন হাসান। আগের দুটি ম্যাচে ১২টি উইকেট শিকার করে নজর কাড়েন তিনি। যে কারণে চুক্তির মেয়াদে কাউন্টি দলটি তাঁকেই আবার ফিরিয়ে আনে। আর মাঠে নেমে প্রথম সুযোগেই ফ্র্যাঞ্চাইজির সেই আস্থার শতভাগ প্রতিদান দিলেন এই গতি তারকা। চলতি মৌসুমে কেন্টের জার্সিতে মাত্র তিন ম্যাচে নামা হাসানের ঝুলিতে জমেছে ১৯টি উইকেট, যেখানে তাঁর গড়ে রান দেওয়ার হার মাত্র ১৮.৩১।
ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু আনেন হাসান। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা অ্যাডাম হোসেকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে তাঁদের ৭৬ রানের শক্ত জুটিটি ভেঙে দেন তিনি। এরপর ক্রিজে সেট হয়ে যাওয়া হেনরি কালেনকে চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড করে ভাঙেন আরও একটি ৮৬ রানের জুটি। উস্টারশায়ারের রান যখন ৫ উইকেটে ২৬৫, তখন বেন অ্যালিসনকে এলবিডব্লিউ করে ইনিংসে নিজের তৃতীয় সাফল্য পান হাসান।
কেন্টের জয়ের পথে হাসানকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন অন্য বোলাররাও। দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার কিথ ডাজন ৬৩ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের পেসার ম্যাট মিলনেস ৫১ রানে ৩টি উইকেট নেন, যার মধ্যে কেন্টের জয় নিশ্চিত করা শেষ উইকেটটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কেন্টের অপর বোলার নিউজিল্যান্ডের পেসার ম্যাট কুইন পান ১টি উইকেট।
উস্টারশায়ারের অধিনায়ক ব্রেট ডি’অলিভেইরা অধিনায়কোচিত সেঞ্চুরি হাঁকালেও দলকে হারের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি। ২২১টি বল মোকাবিলা করে ১২টি চারের সাহায্যে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। একপর্যায়ে লড়াইয়ের আশা জাগালেও শেষ দিকে মাত্র ৩০ রানের ব্যবধানে শেষ ৫টি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে উস্টারশায়ার।
হাসান মাহমুদের বোলিং নৈপুণ্যে পাওয়া এই জয়ে ডিভিশন টু-র পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কেন্ট। ফলে প্রথম বিভাগে উন্নীত হওয়ার লড়াইয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে দলটি। ১১টি ম্যাচ শেষে ১৭০ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের দাবি জোরালো রাখল তারা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ২১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডারহাম। টুর্নামেন্টের প্রথম বিভাগে ওঠার ভাগ্য নির্ধারণে বাকি রয়েছে আর মাত্র তিনটি রাউন্ড।


