ময়মনসিংহে অনুশীলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী ফুটবলারকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক ইজিবাইকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসানের বয়স ৩৬ বছর। তিনি নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের মাদারীনগর গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার বিকেলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাহিদুল ইসলাম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে ওই কিশোরী একটি স্কুলমাঠে ফুটবল অনুশীলন শেষ করে ইজিবাইকে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। পথে শেরপুর ইউনিয়নের দুর্বাকান্দা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে ইজিবাইকচালক মাহমুদুল হাসান গাড়িটি থামান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইজিবাইক থামানোর পর মাহমুদুল কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় কিশোরী বাধা দেন এবং দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তিনি চিৎকার করলেও একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর কিশোরী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কয়েক দিন পর রোববার রাতে নান্দাইল উপজেলা সদরে মাহমুদুল হাসানকে দেখতে পান ওই কিশোরী। তাকে দেখে কিশোরী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। পরে তার সতীর্থ খেলোয়াড়দের সহায়তায় মাহমুদুলকে আটক করা হয়। এরপর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওই রাতেই কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার দেখায়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাতে ফুটবল অনুশীলনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম শেষে কিশোরী ও নারী খেলোয়াড়দের নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়টি সামনে এসেছে। নিয়মিত অনুশীলন ও খেলাধুলার জন্য অনেক কিশোরীকে সন্ধ্যার পরও মাঠে থাকতে হয়। ফলে যাতায়াতের নিরাপত্তা তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
তবে মামলায় করা অভিযোগের ভিত্তিতেই মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।


