পুলিশ ও অফিসার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অফিসার্স ক্লাবে প্রবেশ করেন মোশাররফ হোসেন। তিনি ক্লাবটির সদস্য ছিলেন। ক্লাবে ঢোকার পর মেয়েকে সুইমিংপুলের পাশে রেখে তিনি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে যান।
এরপর প্রায় এক ঘণ্টা কেটে যায়। একপর্যায়ে ভবনের নিচতলায় সিঁড়ির পাশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণাধীন ভবনটির সিঁড়ি ও লিফটের পাশের একটি ফাঁকা অংশ দিয়ে নিচে পড়ে গেছেন মোশাররফ হোসেন। তবে তিনি কীভাবে সেখানে পড়ে গেলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ওসি বলেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মোশাররফ হোসেন রাজধানীর বনানীর জি-ব্লকের ৪০ নম্বর বাড়িতে বসবাস করতেন। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। শুক্রবার সকালে ছোট মেয়েকে নিয়ে ক্লাবে যাওয়ার পর তাঁর এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণের কথা পুলিশ জানায়নি। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।


