খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুরোনো ভবনের সামনে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনায় অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ফরিদুল ইসলাম (৫৫) আহত হয়েছেন। আগুনে অ্যাম্বুল্যান্সটির পাশাপাশি পাশে রাখা নয়টি মোটরসাইকেলও পুড়ে গেছে।
হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দুপুরে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের সামনে একটি অ্যাম্বুল্যান্স রাখা ছিল। হঠাৎ সেটির গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
বিস্ফোরণের পর নিজের জীবন বাঁচাতে অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ফরিদুল ইসলাম হাসপাতালের সামনের পুকুরে ঝাঁপ দেন। এতে তিনি আহত হন। পরে আগুন অ্যাম্বুল্যান্সের দুই পাশে রাখা মোটরসাইকেলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে নয়টি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতাল চত্বর ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ধোঁয়া হাসপাতালের ভবনের ভেতরেও ঢুকে যায়। এতে চিকিৎসাধীন রোগী, তাঁদের স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আগুনের উৎস হাসপাতালের মূল ভবনের কাছাকাছি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফলে আগুন হাসপাতালের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, পুরোনো ভবনের সামনে থাকা অ্যাম্বুল্যান্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পরই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ফরিদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। আগুনে অ্যাম্বুল্যান্স ও নয়টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সাধারণত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপ, সিলিন্ডারের ত্রুটি, গ্যাসের লিকেজ কিংবা সংযোগ ব্যবস্থার সমস্যার মতো বিষয়গুলো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতালের মতো জনবহুল ও সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড রোগী ও স্বজনদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে অ্যাম্বুল্যান্স, অক্সিজেন বা গ্যাসভিত্তিক সরঞ্জাম ব্যবহারের এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ রাখা জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে যানবাহন পার্কিংয়ের স্থান এবং দাহ্য বা চাপযুক্ত গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অল্প সময়ের মধ্যে আগুন একাধিক যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য