রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় গুরুতর আহত চার বছরের শিশু জিসানের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর প্রায় ১৬ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন ছিল শিশুটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) তার মৃত্যু হয়।
নিহত জিসান ভোলার লালমোহন উপজেলার গুদিরপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আলী আকবরের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল বড়। পরিবার নিয়ে পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় বসবাস করত তারা।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বাসার কাছেই জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সামনের সড়কে খেলছিল জিসান। খেলার একপর্যায়ে সে সড়কের মাঝের আইল্যান্ড থেকে রাস্তায় নামলে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সহযোগিতায় দুর্ঘটনার পরপরই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর জিসানকে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
জিসানের বাবা আলী আকবর জানান, ছেলের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকেই শিশুটির অবস্থা গুরুতর ছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে হারাতে হয়েছে পরিবারকে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসেন। তিনি জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শেরেবাংলা নগর থানাকে জানানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানবাহন ও চালকের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে শিশুদের চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও ঘটনাটি আবার সামনে এনেছে। আবাসিক এলাকার কাছাকাছি সড়ক, বিশেষ করে যেখানে শিশুদের চলাচল বেশি, সেখানে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও পথচারীর নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে গাড়িটির প্রকৃত গতি, চালকের ভূমিকা এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চার বছরের একটি শিশুর এমন মৃত্যুতে পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের পক্ষ থেকেও দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



