খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় প্রতিদিনের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ভ্রমণকারী ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য। বিশ্ববাজারের পরিবর্তন, বিভিন্ন দেশের আর্থিক নীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা-যোগানের প্রভাব বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়, যার কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় মূল্যে পরিবর্তন দেখা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (০৭ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ।
| মুদ্রার নাম | বাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার |
|---|---|
| ইউএস ডলার | ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা |
| ইউরো | ১৪০ টাকা ৫৪ পয়সা |
| পাউন্ড স্টার্লিং | ১৬৪ টাকা ৪৯ পয়সা |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৬ টাকা ৪৭ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৫ টাকা ৪০ পয়সা |
| চাইনিজ ইয়েন | ১৮ টাকা ০৮ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরি ডলার | ৯৫ টাকা ০৪ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৮ পয়সা |
| মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত | ৩০ টাকা ২০ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল | ৩২ টাকা ৭৫ পয়সা |
| কাতারি রিয়াল | ৩৩ টাকা ৭১ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার | ৩৯৭ টাকা ১৪ পয়সা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম | ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা |
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন বাজার পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রবণতা এবং ব্যাংকভেদে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কোনো বৈদেশিক লেনদেন, অর্থ প্রেরণ বা মুদ্রা বিনিময়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ হার যাচাই করা উচিত।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি জোরদার হওয়া এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এর ফলে খোলাবাজার ও অফিশিয়াল বিনিময় হারের মধ্যকার ব্যবধানও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার প্রায় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই সীমিত ওঠানামা আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, শিল্প খাতের কাঁচামাল সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা আরও সহজ হয়। অন্যদিকে, ডলারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও পড়ে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করিয়ে দিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার একটি পরিবর্তনশীল সূচক। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, বৈদেশিক লেনদেনের চাপ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণে দিনের বিভিন্ন সময়েও এ হারে পরিবর্তন আসতে পারে।