আড়াইহাজারে নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় মেঘনা নদীর একটি শাখা নদী থেকে পা বাঁধা এবং কোমরে বস্তা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহত ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের নয়নাবাদ বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর শাখা নদী থেকে এই লাশটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়ভাবে নদীটি ‘মরা গাং’ নামে সুপরিচিত। তবে শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় এই বিবরণ লেখা পর্যন্ত নিহতের প্রকৃত নাম-পরিচয় বা ঠিকানার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং তার সনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের মরদেহ দর্শন ও পুলিশে খবর প্রদান

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, শনিবার বিকালের দিকে খাগকান্দা ইউনিয়নের নয়নাবাদ বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর শাখা মরা গাঙে প্রচুর পরিমাণে কচুরিপানা জমে ছিল। সেখানে ভাসমান অবস্থায় একটি মৃতদেহ আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তারা লক্ষ্য করেন যে, মৃতদেহের পা দুটি রশি বা অনুরূপ কিছু দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং কোমরের অংশে একটি ভারী বস্তা শক্তভাবে পেঁচানো বা বাঁধা অবস্থায় ছিল। এই রহস্যজনক ও নির্মম দৃশ্য দেখার পর স্থানীয় লোকজন অবিলম্বে বিষয়টি আড়াইহাজার থানা পুলিশ এবং খাগকান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেন।

পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্ধার অভিযান ও সুরতহাল

নদীতে লাশ ভেসে থাকার খবর পাওয়ার পরপরই আড়াইহাজার থানা পুলিশ এবং খাগকান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সার্বিক সহায়তায় নদী থেকে ভাসমান ও অর্ধগলিত মরদেহটি ডাঙায় তুলতে সক্ষম হন। লাশটি পানি থেকে উদ্ধার করার পর নৌ পুলিশের উপস্থিত কর্মকর্তা ও সুরতহাল দল নিহতের শরীরের প্রাথমিক আলামত পর্যবেক্ষণ করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় পুলিশ নিশ্চিত করে যে, নিহতের পা দুটি পরস্পর বাঁধা ছিল এবং কোমরে একটি বস্তা বাঁধা ছিল, যা সাধারণত অপরাধ আড়াল করার উদ্দেশ্যে বা লাশটি ডুবিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ভারী কিছু ভরে করা হয়ে থাকে।

মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ ও সনাক্তকরণের আধুনিক প্রক্রিয়া

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পরিচয় জানার জন্য পুলিশ সব ধরনের প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতের সঠিক পরিচয় বের করার জন্য পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। এই বিশেষায়িত তদন্ত দলগুলো প্রযুক্তির সাহায্যে নিহতের আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং অন্যান্য ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

ওসি মো. সবজেল হোসেন লাশের অবস্থা ও গলিত রূপ দেখে আরও ধারণা প্রকাশ করে জানান, আনুমানিক ছয় থেকে সাত দিন আগে কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বা খুনিরা ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পর তথ্য-প্রমাণ ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে দুই পা এবং কোমরে বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে যেতে পারে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কিছু এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় সুনির্দিষ্টভাবে জানার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী নিয়মিত আইনি ও পুলিশি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।