আল-আকসায় পুনরায় জুমার সমাগম

দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে ফিলিস্তিনিদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ। গত শুক্রবার সেখানে প্রায় এক লক্ষ মুসল্লি একত্র হয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। আঞ্চলিক সংঘাত, নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ি এবং চলমান উত্তেজনার কারণে প্রায় চল্লিশ দিন এই পবিত্র স্থানে প্রবেশ সীমিত ছিল, ফলে নিয়মিত জুমার জামাতে অংশ নিতে পারেননি মুসল্লিরা।

শুক্রবার ভোরের আগেই জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ আল-আকসার দিকে অগ্রসর হন। নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণ এক আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। দীর্ঘ বিরতির পর পবিত্র স্থানে ফিরে আসার অনুভূতি মুসল্লিদের মধ্যে গভীর আবেগ ও স্বস্তি সৃষ্টি করে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, পূর্ব জেরুজালেম ছাড়াও ১৯৪৮ সালে নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নানা অঞ্চল থেকেও হাজার হাজার মানুষ বিশেষ কাফেলায় করে আল-আকসায় পৌঁছান। ভোর রাত থেকেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সহায়তায় এসব কাফেলা যাত্রা শুরু করে, যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ জুমার জামাতে অংশ নিতে পারেন।

জুমার খুতবায় আল-আকসা মসজিদের খতিব মুসল্লিদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ন্যায় ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুতি একটি জাতির জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জেরুজালেমের পুরোনো শহরের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন। অবরোধ ও দীর্ঘ বন্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো ধর্মীয় ও মানবিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ সীমিত করা হয়। এর ফলে টানা পাঁচটি জুমার নামাজে মুসল্লিরা অংশ নিতে পারেননি।

নিচে ওই সময়কালের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—

সপ্তাহ তারিখ পরিস্থিতি
প্রথম সপ্তাহ ৬ মার্চ জুমা অনুষ্ঠিত হয়নি
দ্বিতীয় সপ্তাহ ১৩ মার্চ প্রবেশ সীমিত, জুমা বন্ধ
তৃতীয় সপ্তাহ ২০ মার্চ জুমা অনুষ্ঠিত হয়নি
চতুর্থ সপ্তাহ ২৭ মার্চ জুমা বন্ধ থাকে
পঞ্চম সপ্তাহ ৩ এপ্রিল জুমা অনুষ্ঠিত হয়নি
ষষ্ঠ সপ্তাহ ১০ এপ্রিল পুনরায় জুমা অনুষ্ঠিত

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় পর পুনরায় বড় পরিসরে নামাজ আদায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় পুনর্মিলনের ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের পর পূর্ব জেরুজালেম নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো এমন দীর্ঘ সময় রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ ও ঈদের জামাত সীমিতভাবে প্রভাবিত হয়, যা স্থানীয় মুসলমানদের জন্য এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর আল-আকসার স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় মুসল্লিদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।