খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪ পিএম
ভারতের আসাম রাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিমাক্রয়ে জড়িত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান ‘কানারা এইচএসবিসি লাইফ ইন্স্যুরেন্স’। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে গ্রাহক ও তাদের স্বজনদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে বিমা দাবি পরিশোধের প্রক্রিয়া এক ধাক্কায় অনেক সহজ ও দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে আসামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে এবং জীবনহানির ঘটনাও ঘটেছে। এমন মানবিক সংকটের সময় বিমা দাবির জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সহজ করাই কানারা এইচএসবিসি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপর মূল লক্ষ্য। জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সুরক্ষা প্রদানের জন্য বিমা দাবি পর্যালোচনার কাজে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সংস্থাটি।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এখন আর বিমা দাবি আদায়ের জন্য দীর্ঘ কাগজপত্রের জটিলতায় ভুগতে হবে না। নামমাত্র প্রয়োজনীয় কিছু দলিল জমা দিলেই দ্রুততম সময়ে দাবিকৃত অর্থ গ্রাহক বা তাদের মনোনীত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। বিমা দাবির জন্য মূলত যেসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
আবেদনপত্র: সঠিকভাবে পূরণ করা বিমা দাবির একটি সাধারণ ফরম।
মৃত্যু প্রমাণপত্র: পৌরসভা থেকে ইস্যু করা অফিসিয়াল ডেথ সার্টিফিকেট, সরকারিভাবে প্রকাশিত মৃতের তালিকা অথবা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত যেকোনো প্রমাণপত্র।
পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর ছবিসহ সরকারি পরিচয়পত্র (যেমন: আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা পাসপোর্ট)।
সম্পর্কের প্রমাণ: বিমাকারীর সঙ্গে দাবিদারের সম্পর্কের স্পষ্ট প্রমাণ (প্রয়োগযোগ্য ক্ষেত্রে)।
ব্যাংক হিসাবের বিবরণ: দ্রুততম সময়ে ব্যাংকে টাকা প্রেরণের সুবিধার্থে একটি বাতিল করা চেক (Cancelled Cheque), ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিংবা এনইএফটি (NEFT) মানডেট ফরম।
আসামের স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমাতে কোম্পানিটি তাদের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস এবং অনলাইন সহায়তা চ্যানেলগুলোকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক বা তাদের স্বজনেরা সরাসরি কানারা এইচএসবিসি লাইফের স্থানীয় শাখা, হটলাইন নম্বর কিংবা নিজস্ব ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিকভাবে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দুর্গত মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে বিমা খাতের এমন মানবিক ও সংবেদনশীল উদ্যোগ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
মন্তব্য