খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে নির্ধারিত আয়ারল্যান্ড সফর শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখল না। তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নিয়ে সাজানো এই সিরিজটি বাতিল করেছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড (সিআই)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে। যদিও এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবু আইরিশ বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে সিরিজ বাতিলের ইঙ্গিত মিলেছে।
মূলত লজিস্টিক জটিলতা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতাকেই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের মতো উদীয়মান ক্রিকেট দেশের জন্য বড় আকারের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন ব্যয়বহুল ও ব্যবস্থাপনাগতভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়—বিশেষত যখন একই সময়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সিরিজ ও ঘরোয়া ব্যস্ততা থাকে।
বাংলাদেশ দলের জন্য সূচিটি ছিল ঘনিষ্ঠভাবে সাজানো। জুন মাসে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পরপরই আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজদের। সেই হিসেবে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং প্রস্তুতির সময়ও একটি বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছিল।
সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড তাদের গ্রীষ্মকালীন পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে। সেখানে ভারত, আফগানিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের কোনো উল্লেখ নেই। এতে স্পষ্ট হয় যে, এই সফরটি আপাতত স্থগিত বা বাতিলের পথেই হেঁটেছে।
নিচে আয়ারল্যান্ডের আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| প্রতিপক্ষ দেশ | সিরিজের ধরন | সম্ভাব্য সময় |
|---|---|---|
| নিউজিল্যান্ড | একমাত্র টেস্ট (চারদিন) | মে |
| ভারত | টি-টোয়েন্টি সিরিজ (২ ম্যাচ) | জুন |
| আফগানিস্তান | সীমিত ওভারের সিরিজ (সংখ্যা বাড়ানো) | জুলাই-আগস্ট |
| বাংলাদেশ | বাতিল | নির্ধারিত ছিল জুলাই-আগস্ট |
বাংলাদেশের জন্য এই বাতিলের প্রভাবও কম নয়। জুলাই-আগস্টে কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ না থাকায় দলকে প্রায় দেড় মাস অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী সিরিজের জন্য, যা সম্ভবত ভারতের বিপক্ষে হতে পারে। এই বিরতি খেলোয়াড়দের ফর্ম ও ম্যাচ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও একই সঙ্গে এটি বিশ্রাম ও পুনর্গঠনের সুযোগও এনে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড বোর্ড তাদের আর্থিক ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার মধ্যে থেকেই আন্তর্জাতিক সূচি পুনর্গঠন করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ বাতিল হলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, যা তাদের প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতি বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে হতাশাজনক হলেও ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত ও পরিপূর্ণ সিরিজ আয়োজনের পথ তৈরি করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।