খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম প্রধান একটি স্তম্ভ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকটির মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে নানা বিতর্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। একই সঙ্গে চলমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সংগঠনটির পূর্বঘোষিত গ্রাহক মহাসমাবেশ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান ফোরামের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক নুরুনবী মানিক। তিনি ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি এবং গ্রাহকদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও অভিযোগ উত্থাপন করেন।
নুরুনবী মানিক তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকটিকে এর প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ গ্রাহক ও সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থে ইসলামী ব্যাংককে পুনরায় কোনো লুটেরা বা রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। তাঁর অভিযোগ, ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে এই ব্যাংকের বৈধ মালিকানা জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হতে শুরু করে।
গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার রোধে দ্রুত এবং কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা। একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের যাবতীয় দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে বিতর্কিত ১৮/ক ধারা বাতিলের দাবি জানান তারা।
বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে নুরুনবী মানিক বলেন, জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় এসব বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘ দুই মাস সময় পার হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো গ্রাহকেরা যখন নিজেদের কষ্টার্জিত আমানতের সুরক্ষার জন্য ন্যায্য আন্দোলন করছেন, তখন সেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
ফোরামের নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে আপাতত শনিবারের মহাসমাবেশ স্থগিত করা হলেও তারা মাঠ ছাড়ছেন না। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণা করা না হয়, তবে সাধারণ গ্রাহকদের সাথে নিয়ে খুব শিগগিরই মহাসমাবেশসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।