খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ এএম
কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বর্ষণের জেরে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি মাদ্রাসার ওপর পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপ ভেঙে পড়লে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মাটির নিচে নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আটকা পড়া শিশুদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি ব্লকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্যাম্পের মাঝিদের কাছ থেকে জানা গেছে, পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ওই মাদ্রাসটিতে ঘটনার সময় প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদ্রাসা ঘরের ওপর পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পের সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথমে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
পাহাড়ধসে পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই এপিবিএন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। মাটির নিচ থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজন শিক্ষার্থী এখনও নিখোঁজ বা মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সংখ্যা জানা সম্ভব নয়।
বর্ষা মৌসুমে কক্সবাজার ও উখিয়ার পাহাড়ি এলাকার মাটি অত্যন্ত নরম ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল, যার ফলেই এই পাহাড়ধসের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনরা এখন দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন, তাঁদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ক্যাম্পের আকাশ-বাতাস। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মাটি সরানোর কাজ করছেন যেন ভেতরে কেউ জীবিত থাকলে তাঁকে অক্ষত অবস্থায় বের করা যায়। স্থানীয় প্রশাসন পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে।
মন্তব্য