খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম
বগুড়ায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের একটি উড়াল সড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাককে পেছন থেকে আরেকটি ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ছিলিমপুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার আনন্দ সরকারের ছেলে তাপস সরকার (৩৫) এবং তাঁর ছেলে তীব্র সরকার (১৮)। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত নূর ইসলাম (স্থানীয় সূত্রে দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকার বাসিন্দা) বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার ভোরে ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চাকা বিকল হয়ে যায়। ট্রাকটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চালক ও তাঁর সহকারী সেটি সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেন। চাকা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তাপস সরকার ও তাঁর ছেলে তীব্র সরকারও সেখানে আসেন এবং কাজে সহযোগিতা করছিলেন।
এর মধ্যেই রংপুরগামী একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ধাক্কা দেওয়া ট্রাকটির সামনের অংশ কার্যত দুমড়েমুচড়ে যায়। সেখানে থাকা তাপস ও তীব্রসহ তিনজন গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
নিহত তাপস সরকারের শ্যালক নয়ন রায় জানান, ট্রাকের চাকা নষ্ট হওয়ার পর তাপস তাঁর ছেলে তীব্রকে স্পেয়ার চাকা নিয়ে আসতে বলেছিলেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে ট্রাকের চাকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা ট্রাকটি তাঁদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাপস ও তীব্র মারা যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের পর ট্রাকটির কেবিন মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়। ভেতরে আটকে থাকা মরদেহ বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ভেতর থেকে দুজনের মরদেহ বের করে আনেন।
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক মুঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সাময়িকভাবে যানজট সৃষ্টি হলেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন ও ছড়িয়ে থাকা মালামাল সরিয়ে ফেললে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। অপর ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মহাসড়কে বিকল যানবাহন দাঁড় করিয়ে মেরামতের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভোর বা সকালের কম দৃশ্যমানতার সময়ে সড়কে সতর্ক সংকেত, প্রতিফলকযুক্ত সতর্কতা চিহ্ন এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বগুড়ার এই দুর্ঘটনা মহাসড়কে বিকল যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
মন্তব্য