খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম
একই দিনে পৃথিবীর আলোয় আসা, একই ছাদের নিচে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা এবং সবশেষে মেধার লড়াইয়েও একযোগে অনন্য সাফল্য! এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় একসঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি তথা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে এক বিরল নজির স্থাপন করেছে কুড়িগ্রামের তিন জমজ বোন। মেধার এই অভূতপূর্ব জয়জয়কারে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভাসছে তাদের পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
মেধাবী ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী এই তিন জমজ বোন হলেন তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান। তারা কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক ও গৃহিণী শাহিনা আক্তারের সুযোগ্য কন্যা। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় তাদের দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর পারস্পরিক সহযোগিতা আজ তাদের এই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এই তিন বোন অংশ নিয়েছিল। তবে মজার ব্যাপার হলো, তারা সবাই একই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় বসেনি। তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে, তাদের অন্য বোন তাবিয়া রহমান পরীক্ষা দিয়েছিল অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভিন্ন প্রশ্নপত্রের মুখোমুখি হলেও ফলাফলের দিক থেকে তারা সবাই নিজেদের মেধার সমান স্বাক্ষর রেখেছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ যোগ্যতা প্রমাণ করে ট্যালেন্টপুলে জায়গা করে নিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর এই দুর্দান্ত পর্ব শেষ করে তিন বোনই এখন হাইস্কুলের গণ্ডিতে পা রেখেছে। বর্তমানে তাহিয়া ও তাকিয়া কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে, তাবিয়া ভর্তি হয়েছে কুড়িগ্রাম বর্ডার গার্ড স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে। ভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়লেও বাড়িতে তাদের পড়াশোনার টেবিলে যৌথ প্রস্তুতি ও খুনসুটি আগের মতোই অটুট রয়েছে।
তিন জমজ বোনের মা-বাবা জানান, শৈশব থেকেই সন্তানদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি এক ধরনের সহজাত টান ছিল। একজনের পড়া শেষ হলে অন্যজন তাকে দেখে উৎসাহিত হতো। পড়ার টেবিলে কোনো বিষয়ে খটকা লাগলে তিন বোন মিলেই তার সমাধান বের করে ফেলত। এই পারস্পরিক বোঝাপড়া, প্রতিদিনের গোছানো পড়াশোনা এবং পরিবারের সঠিক দিকনির্দেশনাই তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি।
মেয়েদের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। আমার মেয়েরা যেন ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হয়ে দেশের সেবা করতে পারে। তারা যেন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া ও প্রার্থনা।’
মেধাবী এই তিন বোনের সাফল্যে কুড়িগ্রামের শিক্ষানুরাগীদের মধ্যেও বেশ সাড়া পড়েছে। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন এই অর্জনকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ‘একই পরিবারের তিন জমজ বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার ঘটনা সত্যিই সচরাচর দেখা যায় না। এটি একটি বিরল ও ঐতিহাসিক ঘটনা। এই কৃতিত্ব শুধু তাদের পরিবারের একার নয়, বরং পুরো কুড়িগ্রাম জেলার জন্যই এক বিশাল গর্বের বিষয়। এই তিন কন্যার গল্প জেলার অন্য শিক্ষার্থীদেরও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।’
মন্তব্য